কবিতা- রাজোচিত শিষ্টাচার, কলমে- গোবিন্দ দাস চট্টোপাধ্যায়, কণ্ঠে- Aniruddha Pan

কবিতাটি মহাভারতের শান্তিপর্বের ঘটনা

FULL POEM LYRICS

রাজোচিত শিষ্টাচার
গোবিন্দ দাস চট্টোপাধ্যায়

কুরুক্ষেত্র রনাঙ্গনে শরশয‍্যা পরে।
শায়িত পিতামহ ভীষ্ম প্রানত‍্যাগ তরে।।
হেনকালে যুধিষ্ঠির শ্রদ্ধা ও বিনয়ে।
শ্রীকৃষ্ণ ও পিতামহে প্রনমিয়া কহে।।
ধর্মজ্ঞ ব‍্যাক্তিরা কহে রাজধর্ম শ্রেষ্ঠ।
যেহেতু আপনি মোদের গুরু বয়োজ‍্যেষ্ঠ।।
ধর্ম অর্থ কাম মোক্ষ রাজধর্মেই রয়।
শুনিবারে রাজধর্ম মনে ইচ্ছা হয়।।
অশ্বকে করিতে বশ প্রয়োজন চাবুকের।
হস্তিকে করিতে বশ দরকার অঙ্কুশের।।
সূর্য উদিত হলে নাশ হয় অন্ধকার।
রাজধর্ম মানুষের অশুভ গতিকে করে ছারখার।।
এইরূপ রাজধর্ম শুনিবারে চাই।
কৃপা করে কহ শ্রেষ্ঠ আমি শুনে যাই।।
বাসুদেব ও ব্রাহ্মনে করি নমস্কার।
পিতামহ রাজধর্ম কহে চমৎকার।।
রাজার প্রধান কাজ প্রজা হিত সাধনে।
ধর্মঋন মুক্তহয় দেবার্চনা,বাহ্মন সন্মানে।।
আপন পৌরুষে সর্ব কর্ম সিদ্ধি হয়।
রাজার প্রধান নীতি এটি জানিবে নিশ্চয়।
সত‍্যই পরম ধন জেনে রাখো মনে।
ইহা বিনা সাধন আর নাহিক জীবনে।।
কোমল কভু কঠোর স্বভাব প্রয়োজন মত।
ধর্ম পরায়ন জিতেন্দ্রিয় দাতা প্রসন্নবদনে রত।।
নষ্ট হওয়া ধর্মকে রক্ষা রাজার কর্তব‍্য।
আততায়ী নিধনে কভু ধর্মনাশক না ধর্তব‍্য।।
আপন পর জানতে হবে চারটি প্রমানে।
প্রত‍্যক্ষ,উপমান,আগম ও অনুমানে।।
অপরাধ দণ্ডদানে রাজা হয়না সংকুচিত।
ধৈর্যচ‍্যুত না হয় কভু হয় নাকো ভীত।।
রাজা প্রজার ব‍্যবহার গর্ভিনী নারীর সম।
এর চেয়ে উপমা আর কোথা পাই উত্তম।
গর্ভিনী নারী গর্ভস্হ সন্তানের হিতে।
মনোনিবেশ করে চলে সদা দিনে রাতে।।
সেইরূপ প্রজাদের মঙ্গলে তরে।
ব‍্যসন ত‍্যাজিয়া রাজা রাজকার্য করে।।
পরিহাসশীল রাজা কোমল স্বভাবের।
নানা দোষে দোষী হয় ক্ষতি প্রজাদের।।
কটুবাক‍্য স্ত্রী আর ভগ্ন তরনী।
বেদমন্ত্র হীন যদিহয় ঋত্বিকের বানী।।
উপদেশ হীন যদি আচার্য হয়।
প্রজাদের মনে থাকে অহরহ ভয়।।
নাবিক জঙ্গল চায় গোপালক শহরে।
যে রাজা প্রজারক্ষা করিতে না পারে।।
এই ছয় জনে ত‍্যাগ করা দরকার।
জেনে রেখো রাজোচিত এই শিষ্টাচার।।